আজ(১০.০৪.২০১১)রাত নটার দিকে হামদান রোডে হাঁটছিলাম। হঠাৎ তুমুল বাতাস শুরু হতে উপরে চেয়ে দেখি পুরো আকাশ ছেয়ে গেছে কালোমেঘে। বড় বড় ফোঁটায় শুরু হলো বৃষ্টি। এরকম দৃশ্য আমিরাতে বিরল। অনেকবছর ধরে আছি আবুধাবিতে। বাংলাদেশের উল্টো রীতি এখানে, বৃষ্টি হয় শীতের সময়। তাও একটু আধটু। শুধু একবারই মুষলধারে বৃষ্টি হতে দেখেছি ২০০৩ এ। মুঠোফোন ঘেঁটে দেখলাম আজ চৈত্রের ২৭ তারিখ। বাহ্! কালবোশেখি কি তবে আমিরাতেও শুরু হলো।
দৌড়ে চলে গেলাম গ্রিন দরবার রেস্তোরাঁর দিকে। কিছুক্ষণ পর যথারীতি শান্ত হয়ে এলো প্রকৃতি।
ইদানিং প্রায় রাতে ফিরতে দেরি হয়ে যায় খুব। সমুদ্রপারে হাঁটাহাঁটি করে, 'প্রফেসর' সাহেবের সাথে গল্পগুজব করে দুটোর সময় ফিরে আসি। এসময় নিয়মিত বাসগুলো পাওয়া যায় না। রাত বারোটায় বাস পরিসেবা বন্ধ হয়ে যায়। শুধুমাত্র এয়ারপোর্টে যাওয়ার একটা বাস চলে সারারাত ধরে। প্রতি একঘন্টা পরপর। সরাসরি এয়ারপোর্টগামী বলে আমাকে বাসা থেকে অনেকটা দূরেই নামতে হয়। এরপর প্রায় এক কিলোমিটার পথ হেঁটে বাসায়। তারপরও আর্থিক সাশ্রয় এবং শরীরচর্চা দুটোই হয়ে যায় বলে ব্যাপারটা উপভোগ করি। দুর্মূল্যের ট্যাক্সিক্যাবে ফিরতে প্রায় ১৭ দিরহাম খরচ হয়। এই বাসে ৩ দিরহাম।
বাস যখন আমার গন্তব্যে থামলো তখন আবার শুরু হয়েছে বৃষ্টি, একেবারে মুষলধারে, কুকুরবিড়াল বৃষ্টি যাকে বলে :)। পাঠান ড্রাইভার মুখ কালো করে চাইলো আমার দিকে। দৃষ্টিতে সমবেদনা। এই বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে আমি যাবো, সেটা বোধহয় তার ভালো লাগছে না।
বাস থেকে নেমে দারুণ উল্লসিত আমি। রাত দুটোর নির্জন পথ। তুমুল ঝড়বৃষ্টি! অনেকদিন বৃষ্টিতে ভেজার সৌভাগ্য হয়নি। কিন্তু আবার ভয়ও হলো সর্দি না ধরে যায়। ফেরার সময় ২৪ঘন্টার সুপারশপ থেকে দুধের বোতল নিয়েছিলাম। যেটা পলিথিনে রাখা হাতে। দুধের বোতলটা জিনসের পকেটে চালান করে দিয়ে পলিথিন দিয়ে মাথাটা ঢেকে নিলাম। তুমুল বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে জামাপ্যান্ট। মাথায় পলিথিন। স্কুলজীবনের বৃষ্টিভেজার হিরকস্মৃতি রোমন্থন করতে করতে চিৎকার করে বেসুরো গলায় গান গাইতে গাইতে হাঁটছি।
আজ আমি তোমাকে মাফ করে দিতে পারি! তোমার অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে তুমি কোনোদিন বৃষ্টিজলে ভিজতে পারবে না বলে!
সাম্বা-ধিক!
3 years ago
No comments:
Post a Comment